দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নরসিংদীতে স্ত্রীকে গলা টিপে হত্যার দায়ে স্বামী নূর আলম রূপাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেছে বিজ্ঞ আদালত।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) নরসিংদী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহম্মদ আলী আহসান এ রায় প্রদান করেন। সাজাপ্রাপ্ত নূর আলম রূপা পলাশ উপজেলার আঃ রহিম মিয়ার ছেলে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ জেলার তারাইল থানার তালজাংগা গ্রামের মোঃ ফজলু মিয়ার মেয়ে সুমি আক্তারের সাথে পলাশ উপজেলার উত্তর মিয়াপাড়া গ্রামের আঃ রহিম মিয়ার ছেলে নূর আলম রূপার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে যৌতুক এনে দিতে সুমিকে চাপ দিতে থাকে স্বামী রূপা। এক পর্যায়ে সুমি বাবার বাড়ী থেকে ২ লাখ টাকা এনে দেন স্বামীকে। টাকা এনে দেয়ার কিছুদিন পরই পূনরায় আরো টাকা এনে দিতে চাপ দিতে থাকে। সুমির বাবার বাড়ী খুবই দরিদ্র হওয়ায় দ্বিতীয় বার টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। এতে সুমির ওপর নেমে আসে অমানষিক নির্যাতন। এক পর্যায়ে নির্যাতন ও স্বামীর দাবীকৃত টাকা দিতে না পেরে সন্তান ও স্বামীর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে বিদেশে পাড়ি জমান। বিদেশ থেকে উপার্জিত সকল টাকাই স্বামী রূপার কাছে পাঠাতেন স্ত্রী সুমি।
দীর্ঘ দিন প্রবাসে থেকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দেশে ফিরেন। দেশে ফেরার পর স্বামী রূপা মোটরসাইকেল কিনবে বলে স্ত্রী সুমিকে টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে। এক পর্যায়ে স্ত্রী দেশে পাঠানো টাকার হিসেব স্বামীর কাছে চাইলে তাদের মধ্যে পূনরায় কথা কাটাকাটি হয়। ২০২৩ সালের ১৮ নভেম্বর রাতে স্বামী রূপা এলোপাথারী পিটিয়ে ও গলাটিপে হত্যা করে সুমির লাশ ঘরের মেঝেতে ফেলে রেখে চলে যায়। পরদিন ১৯ নভেম্বর সকাল ১১টার দিকে পলাশ থানা পুলিশ সুমির লাশ উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেন। পরে গত ২০ নভেম্বর নিহতের পিতা ফজলু মিয়া বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি দীর্ঘ তদন্ত শেষে ও স্বাক্ষীদের স্বাক্ষ প্রমাণের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহম্মদ আলী আহসান, স্বামী নূর আলম রূপাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড এবং এক লাখ টাকা অর্থদন্ড, অনাদায়ে আরো এক বছরের সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন।
কেএম